২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী তামার গড় দাম বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে গবেষণা সংস্থা বিএমআই (ফিচ সলিউশনের একটি ইউনিট)। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সরবরাহ বিঘ্ন ও শিল্প খাতে ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা ধাতবপণ্যটির গড়মূল্য বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখবে। খবর মাইনিং ডট কম।
বিএমআইয়ের হালনাগাদ পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী বছর প্রতি টন তামার গড় দাম হবে ৯ হাজার ৬৫০ ডলার। এটি আগে দেয়া পূর্বাভাস টনপ্রতি ৯ হাজার ৫০০ ডলারের তুলনায় কিছুটা বেশি।
সংস্থাটি জানায়, চলতি বছরের এ পর্যন্ত তামার গড় দাম দাঁড়িয়েছে টনপ্রতি ৯ হাজার ৬০৯ ডলার। তবে বর্তমানে তা টনপ্রতি ১০ হাজার ডলারের বেশি দামে বেচাকেনা হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদহার কমালে উৎপাদন ও বিনিয়োগ কার্যক্রম বাড়বে, এমন প্রত্যাশা তামাসহ শিল্প ধাতুর বাজারকে ঊর্ধ্বমুখী করে তুলেছে। তবে গবেষণা সংস্থাটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনা পুনরায় বাড়লে ২০২৬ সাল নাগাদ মূল্যবৃদ্ধির ধারা সীমিত হয়ে আসতে পারে।
বিএমআই বলছে, বৈশ্বিক তামা ব্যবহারে এখনো প্রধান চালিকাশক্তি চীন। দেশটির রিয়েল এস্টেট খাতের মন্দা স্বল্পমেয়াদে দামের ওপর প্রভাব ফেললেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ ও বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে তামার চাহিদা বেড়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে চীনে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেড়েছে ২১২ গিগাওয়াট, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। একই সময়ে ইভি বিক্রি ৩৩ শতাংশ বেড়ে মোট বিক্রির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪ লাখ ইউনিটে।
চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সাংহাই ফিউচার এক্সচেঞ্জে তামার মজুদ মার্চে ১ লাখ ৬০ হাজার ৮০০ টন থেকে সেপ্টেম্বরের শেষে নেমে এসেছে মাত্র ২৬ হাজার ৮০০ টনে, যা কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জেও মজুদ প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টনে নেমে এসেছে, যা আগের তুলনায় অর্ধেক।
বিএমআইয়ের বিশ্লেষকরা জানান, তামা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার অন্যতম কারণ খনি শিল্পে ধারাবাহিক বিপর্যয়। ইন্দোনেশিয়ায় ফ্রিপোর্ট-ম্যাকমোরানের বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রাসবার্গ খনিতে সেপ্টেম্বরে কাদামাটির ঢলের দুর্ঘটনায় উত্তোলন ৩৫ শতাংশ কমে গেছে।
চিলির রাষ্ট্রায়ত্ত খনি প্রতিষ্ঠান কোদেলকোর উত্তোলন আগস্টে আগের বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ কমে ৯৩ হাজার ৪০০ টনে নেমেছে, যা দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। এছাড়া দেশটির অ্যাঙ্গলো আমেরিকান ও গ্লেনকোরের যৌথ খনি কলাউয়াসির উত্তোলনও ২৭ শতাংশ কমেছে।
বিএমআই জানিয়েছে, এসব বাধা সত্ত্বেও ২০২৫ সালে বৈশ্বিক পরিশোধিত তামা উত্তোলন ২ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে দীর্ঘমেয়াদে তামার বাজারে ঘাটতি আরো প্রকট হবে বলে মনে করছে বিএমআই। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, আসন্ন দশকে নতুন খনি প্রকল্প চালু হলেও বৈদ্যুতিক যান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ব্যবহারের পরিমাণ দ্রুত বাড়বে।
ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) বরাত দিয়ে বিএমআই জানায়, একটি বিদ্যুচ্চালিত গাড়িতে ৫০ কেজির বেশি তামা ব্যবহার হয়, যা প্রচলিত গাড়ির তুলনায় দ্বিগুণ। আর বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি মেগাওয়াটে প্রয়োজন হয় প্রায় আট টন তামা।
এমন প্রেক্ষাপটে বিএমআই ধারণা করছে, ২০৩৪ সালের মধ্যে প্রতি টন তামার দাম বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১৭ হাজার ডলারে। এ সময় বৈদ্যুতিকীকরণ ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি অবকাঠামো বিস্তারের ফলে সরবরাহ ঘাটতি আরো তীব্র হতে পারে।